Monday, July 27, 2026

মহানবীর স্মরণে ১৯৪৯ সাল

মহানবীর স্মরণে
শ্রী শৈলেন্দ্র নাথ চৌধুরী

[অতিথি লেখক - হাফিজ আহমেদের শিক্ষক, নান্দিনা স্কুল। নান্দিনা উচ্চ ইংরেজী বিদ্যায়তনের মুসলিম ছাত্রবৃন্দ কর্তৃক অনুষ্ঠিত ১লা বৈশাখ ১৩৫৬ সনে (১৪ই এপ্রিল, ১৯৪৯ খৃস্টাব্দ) মিলাদ মহফিলে পঠিত]] 

বহু বহু দিন হয়ে গেছে গত
পাপীর প্রতাপে কত অগণিত
কত সহস্র কল্পনাতীত
    অত্যাচারের কাহিনী।
তাদের ইতিহাস বর্ণনা করে
আরবের মরু প্রান্তর ঘিরে
কত অবিচার কত আনাচার 
    কলঙ্কিত ছিল মেদিনী 
কেহ মানিত ধর্ম্মা ধর্ম্ম
যে যাহার মত করেছ কর্ম্ম
মানবের দেহে দানব চর্ম্ম
    রয়েছিল পরিহিত।

নিয়ম কানুন এতটুকু তার
কেহ কোনদিন ধারে নাই ধার
করিতে জানিত শুধু অনাচার
     আপনার খুশীমত।

হয়ে উন্মাদ নেশায় মত্ব
ভুলে গিয়েছিল পরম সত্য
কলুষিত চিত্তে জাগিত নিত্য
    সত্য নহে যা যত
বন্ধু নাশিত বন্ধুর প্রাণ
    বনের হিংস্র পশুর সমান
কারো প্রতি কোন করুণার দান
কারো জানা ছিল না ত।

পিতা ও পুত্রে আজিকে যেমন
সেদিন ততটা ছিলনা মিলন
নিধন যজ্ঞ করিত সাধন
               নিঠুর অত্যাচারে
এরা ছিল মায়া মমতা বিহীন
রক্তে ধরণী করিত রঙ্গিন
             সবলের অবিচারে

কে জানিত তার হবে অবসান
পাপীর চিত্ত হবে ম্রিয়মান 
ধ্বনিবে রণিবে সাম্যের গান 
               শুষ্ক বালুর বুকে
গড়িয়া উঠিবে ধর্ম্ম কেতন –
বৃহৎ ক্ষুদ্রে ঘটিবে মিলন 
মনের বেদনা হবে নিরসন
          ধর্ম্মের জ্ঞানালোকে

আরবের সেই গহন আঁধারে
শুষ্ক মরুর বালুকণা ঘিরে
এত অবিচার এত অনাচারে
               সবাই মগ্ন যবে
সহসা তিমির হইল ছিন্ন
ধরণীর ধূলি হইল ধন্য
বিশ্বের মাঝে চির বরেণ্য 
               নবীর আবির্ভাবে 
কহে আরবের প্রধান আসিয়া 
শ্রেষ্ঠ নবীর জীবন নাশিয়া
রাখিব ধরণী রঙ্গীন করিয়া 
             অত্যাচারের স্রোতে

এ মহামানবের করিতে নিধন
নানাভাবে করি নানা আয়োজন
আরবের বুকে রুখে বীরগণ 
                 মুক্ত কৃপাণ হাতে 
গৃহে গৃহে ওঠে রণহুঙ্কার
যেমনেই পার কর সংহার
এতদিন পরে একি অবিচার
               একি অনাচার হেরি
ক্ষুদ্র মানব এতই সাহস!
কতটুকু এর হয়েছে বয়স?
মজাইতে চাহে সুখ নিরস 
                    ধর্ম্ম কর্ম্ম করি

আমাদের পিতা প্রপিতা মহেরা 
যে পথে গেছেন, সেই পথছাড়া 
কোথাকার এক অবুঝ ছোকড়া 
              বিপরীত কথা কহে
জীবন থাকিতে আমারা সবাকার
ঘটিতে দিব না হেন অনাচার
এত বলি যবে ছাড়ি হুঙ্কার
                নবীরে বধিতে চাহে।

সব অবিচার হল অবসান
অত্যাচারির মুক্ত কৃপাণ
মুহূর্তে শেষে হল খান খান
           ধর্ম্মের আহবানে
মিলনের রচি মহাসমুদ্র
এক হল শেষে ধনী দরিদ্র
ছোট বড় আর ইতর ভদ্র
           বসে কে বা একাসনে

কবি ভাবে তাই মুগ্ধ চিত্তে
ধরণীর ধূলি ভরিলে রক্তে
ভগবান তার পরম ভক্তে 
            শক্তি করিয়া দান
মরণোম্মুখ পাপীর করেন 
            পাপ তাপ অবসান।
......।।

No comments:

Post a Comment

মহানবীর স্মরণে ১৯৪৯ সাল

মহানবীর স্মরণে শ্রী শৈলেন্দ্র নাথ চৌধুরী [অতিথি লেখক - হাফিজ আহমেদের শিক্ষক, নান্দিনা স্কুল। নান্দিনা উচ্চ ইংরেজী বিদ্যায়তনের মুসলিম ছাত্রবৃ...